পুষ্টিবিদ ড. আনোয়ারা একদিন সকালে তার মেয়ে শুভেচ্ছাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গেলেন। শুভেচ্ছা লক্ষ করল, দোকানি রুটি তাওয়ায় না ভেজে বিশেষ ধরনের মাটির চুলার ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং একটু পর ফোলানো রুটি বের করে আনছে। শুভেচ্ছাকে তার মা বললেন, এটা রান্নার একটা পদ্ধতি। তিনি আরও বললেন, খাদ্যকে দেহের গ্রহণ উপযোগী করার জন্যই রান্নার প্রয়োজন।
খাদ্য রান্না করা সম্পর্কে ড. আনোয়ারার মন্তব্যটি হলো রান্নার প্রচলন বহু যুগ থেকেই চলে আসছে। রান্নার উদ্দেশ্যই হচ্ছে খাদ্যবস্তুকে সহজপাচ্য করে দেহের কাজে লাগাবার উপযোগী করা এবং সেই সাথে সুস্বাদু ও জীবাণুমুক্ত করা। ভোজ্যদ্রব্য প্রস্তুতে রন্ধন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমেই খাদ্যের স্বাদ, বর্ণ, গন্ধ, ইত্যাদি উন্নত হয়। খাবার রান্নার প্রয়োজনীয়তা হচ্ছে-
১. অধিকাংশ খাবারই মানুষের পক্ষে গ্রহণ উপযোগী থাকে না। রান্না করা খাবার নরম হওয়ার কারণে সহজে চিবানো ও গলাধঃকরণ করা যায়। এতে হজম দ্রুততর হয়।
২. রান্নার ফলে খাদ্যের যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে তা পরোক্ষভাবে পরিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। রান্নার ফলে খাদ্যবস্তুতে উপস্থিত উপাদানসমূহ দেহের কাজের উপযোগী হয়ে ওঠে।
৩. রান্নার মাধ্যমে পচনশীল খাদ্যদ্রব্যে- তাপ প্রয়োগ করা হয়। ৪৫০-৬০০ সে. তাপমাত্রায় বেশিরভাগ খাদ্যের জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে খাদ্যবস্তু রেখে খাওয়া যায় অর্থাৎ রন্ধন পদ্ধতি। পরোক্ষভাবে খাদ্য সংরক্ষণেও সহায়তা করে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রান্নায় খাদ্যের স্বাভাবিক রং, গন্ধ, সংরক্ষণ করা হলে পুষ্টিমূল্যের অপচয় কম হয়।
৪. রান্নার মাধ্যমে একই ধরনের উপকরণ দিয়ে একাধিক ভোজ্যদ্রব্য তৈরি করা যায়। এর ফলে খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি পায় এবং ভোজ্যদ্রব্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, রান্নার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে রান্নার মাধ্যমে যাতে কোনোভাবেই খাদ্যের পুষ্টিমূল্যের অপচয় না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?